সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের জেরে ১৪ বছরের ভুসিচ শাসনের অবসান? ক্ষমতা হারানোর মুখে প্রেসিডেন্ট!

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের জেরে দীর্ঘ ১৪ বছরের আলেকজান্ডার ভুসিচের শাসন শেষ হওয়ার মুখে। সংসদীয় নির্বাচনে ছাত্র সমর্থিত দলের জয়ের পর ভুসিচ পরাজয় স্বীকার করেছেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ ১৪ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য হারানোর দ্বারপ্রান্তে প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুসিচ। আধুনিক প্রজন্মের কাছে ছাত্র বিক্ষোভের মাধ্যমে ক্ষমতার হাতবদল যেন এক নতুন প্রবণতা। দুর্নীতি, অপশাসন এবং অনৈতিক সরকারি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের বারবার পথে নামা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শাসকদের উৎখাত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল সার্বিয়া। ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের পর সার্বিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

এই নির্বাচনে ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা ‘স্টুডেন্টস উইন’ নামক দলটি অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের আগেই প্রেসিডেন্ট ভুসিচ নিজে থেকেই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৫০ আসনের মধ্যে ছাত্র সমর্থিত দলটি ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে, যেখানে তাঁর সমর্থিত তালিকা পাবে প্রায় ১০৫টি আসন। ভুসিচের এই পরাজয় স্বীকার সার্বিয়ার ১৪ বছরেরও বেশি সময়কার রাজনৈতিক আধিপত্যকে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০১২ সাল থেকে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি দেশটির ক্ষমতা ধরে রেখেছিল।

কিন্তু ছাত্র আন্দোলনের এই ঢেউ সেই দীর্ঘকালীন শাসনে বিরাট ফাটল ধরিয়েছে, যা সার্বিয়ার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। গত সেপ্টেম্বরে ভুসিচ প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তাই এই নির্বাচন শুধু একটি দলের জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভুসিচের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।