ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: মণিপুরে ফের বড়সড় অভিযান চালিয়ে ভুয়ো পরিচয়ে বেআইনি অস্ত্র মজুত করার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
সিনাই ক্যাম্প থেকে এই ১৭ জনকে যৌথ অভিযানে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ কার্তুজ, বিস্ফোরক এবং একাধিক কমিউনিকেশন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে। মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং কোবরার সদস্যরা যৌথভাবে গত ২৩শে অক্টোবর এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, সিনাই ক্যাম্পটি কুকি ন্যাশনাল আর্মি এবং কুকি লিবারেশন আর্মির জন্য নির্ধারিত একটি ‘সাসপেনশন অফ অপারেশনস’ ক্যাম্প। অভিযানের সময় ক্যাম্পের সদস্যরা নিজেদের KLA এবং KNA-র সদস্য বলে দাবি করলেও, পুলিশি তল্লাশিতে তা ভুয়ো প্রমাণিত হয়। তাদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র ছিল না এবং তাদের দাবি অসত্য বলে জানা যায়। এরপরই তল্লাশি চালিয়ে ক্যাম্পের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ৩৮টি ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
গত ১৯শে অক্টোবর ইম্ফল ইস্ট ও কাংপকপি জেলার সীমানায় তিন মেইতেই জনজাতির মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর খুনদ্রাকপামের বিধায়ক থকচম লোকেশ্বর সিং সিনাই ক্যাম্পের যোগ থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন এবং ক্যাম্পটি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। সেই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে আর্মস অ্যাক্ট, এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্স অ্যাক্ট এবং ওয়্যারলেস টেলিগ্রাফি অ্যাক্ট সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, কী উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করা হয়েছিল, কোথা থেকে এই অস্ত্র এল এবং ১৯শে অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ধৃতদের কোনও যোগ রয়েছে কিনা। ক্যাম্পের অন্যান্য কার্যকর্তাদের ভূমিকা এবং SoO চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টিও তদন্তাধীন।








