ব্যুরো নিউজ, ২৭ মে ২০২৬ঃ মাত্র ২২ বছর বয়সে দেশের অন্যতম কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসে সাফল্য অর্জন করে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন অভিজিৎ পাটিল। মহারাষ্ট্রের থানে শহরে জন্মগ্রহণকারী অভিজিৎ, কোনও নামী কোচিং সেন্টারের সাহায্য ছাড়াই এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই সরকারি কর্মচারী ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় ইউটিউবে এক ইউপিএসসি টপারের সাক্ষাৎকার দেখে তাঁর মনে প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা জাগে। সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশিই তিনি ইউপিএসসি প্রিলিমস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তাঁর স্বপ্নপূরণের লড়াই।
অভিজিৎ কোনও কোচিং ইনস্টিটিউটে ভর্তি হননি। ইন্টারনেট, অনলাইন স্টাডি ম্যাটেরিয়াল এবং বইয়ের সাহায্যেই নিজের প্রস্তুতি গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা করে পড়তেন তিনি। সময় ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিক অনুশীলনই ছিল তাঁর মূল শক্তি। তিনি মনে করতেন, নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে সঠিকভাবে সময় ভাগ করে পড়লে কোচিং ছাড়াও ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব। ২০২২ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অভিজিৎ ওবিসি বিভাগে সর্বভারতীয় র্যাঙ্কে ৪৭০তম স্থান অর্জন করেন। মেইনস পরীক্ষায় তিনি ১৭৫০-এর মধ্যে ৭৭২ এবং সাক্ষাৎকারে ২৭৫-এর মধ্যে ১৮০ নম্বর পান, মোট স্কোর দাঁড়ায় ৯৫২।
মাত্র ২২ বছর বয়সে আইপিএস অফিসার হওয়ায় তাঁকে রাজস্থান ক্যাডারের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ অফিসার হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে তিনি রাজস্থানের চুরু জেলার রাজগড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা এএসপি পদে কর্মরত। অভিজিৎ পাটিলের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, আজকের দিনে যখন ইউপিএসসি প্রস্তুতিকে ঘিরে বিশাল কোচিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে, তখন সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের পথে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না। তাঁর এই যাত্রা দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় বার্তা বহন করে।








