ড্রাগনের গ্রাসে অরুণাচল! চিনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ স্থানীয় আদিবাসীদের

অরুণাচলে চিনের জমি দখলের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন স্থানীয় আদিবাসীরা। আপার সুবানসিরির ৫টি এলাকা ২০২০ সাল থেকে চিনের দখলে, দাবি নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির। কেন্দ্রের উদ্বেগ বাড়ছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুন ২০২৬ঃ উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চিনের সঙ্গে ভারতের ঠোকাঠুকির মাঝেই এবার অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীরা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। আপার সুবানসিড়ি জেলার স্থানীয় ‘নাহ’ সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের দাবি, চিন তাদের পৈতৃক জমি ও চারণভূমির বড় অংশ অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এই অভিযোগ সত্যি হলে তা নিঃসন্দেহে কেন্দ্রের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হবে এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত হানবে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ নামে একটি আদিবাসী সংগঠন জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। এই স্মারকলিপিতে তাদের অভিযোগ, গত ৬ বছরের মধ্যে চিনের সেনাবাহিনী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অনেকখানি জমি দখল করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, চিন গত ১০-১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ধীরে ধীরে দখলদারি শুরু করলেও, ২০২০ সাল থেকে এই আগ্রাসন ভয়ংকরভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিনের এই ধারাবাহিক অনুপ্রবেশ ভারতের সীমান্ত সুরক্ষায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। স্মারকলিপিতে আপার সুবানসিরির তাকসিং অঞ্চলের ৫টি নির্দিষ্ট এলাকায় চিনা আগ্রাসনের তালিকাও তুলে ধরা হয়েছে।

আদিবাসীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই এলাকাগুলি ২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁদের দখলে ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে চিনের সেনাবাহিনী ঘাঁটি গেড়েছে এবং সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় আদিবাসীরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দ্রুত এই বিষয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ করা উচিত বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা, যাতে অরুণাচলের এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।