দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল, দাউদ-আইএসআই আঁতাত ফাঁস: বিস্ফোরক-সহ ধৃত ৯

দিল্লি পুলিশের হাতে বানচাল বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক। আইএসআই ও দাউদ ইব্রাহিমের আঁতাত ফাঁস, প্রচুর বিস্ফোরক-সহ ৯ জন গ্রেফতার। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল নিশানায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ মে ২০২৬ঃ দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল রাজধানীতে একটি বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক বানচাল করেছে। পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ‘ডি-কোম্পানি’র যৌথ আঁতাত ফাঁস করে শনিবার ৯ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, হ্যান্ড গ্রেনেড এবং মারাত্মক বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য ছিল দিল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক প্রতিষ্ঠান, জনবহুল ধর্মীয় স্থান এবং কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা। ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাজধানীতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত করেছিল এই মডিউল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন নেপালি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিও রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, ধৃতদের সঙ্গে সীমান্ত পারের পাকিস্তানি হ্যান্ডলার এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত অপরাধীদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। এই যৌথ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই দিল্লিতে মারণাস্ত্র ও বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল বর্তমানে এই চক্রের আর্থিক উৎস, নিয়োগের ধরন এবং অস্ত্র সরবরাহকারীদের খোঁজ পেতে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।

এই জঙ্গি মডিউল ধ্বংসের ঠিক এক মাস আগে, দাউদ ইব্রাহিমের আন্তর্জাতিক মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম সহযোগী মহম্মদ সালিম ডোলাকে তুরস্ক থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। মাদকের কালো টাকা ‘হাওয়ালা’ মারফত কীভাবে নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করা হয়, তার ব্লু-প্রিন্ট উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তার মধ্যেই দিল্লির এই দাউদ-আইএসআই যৌথ জঙ্গি মডিউলের পর্দাফাঁস দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।