বেসরকারিকরণের জল্পনা খারিজ ইসরোর! মহাকাশ গবেষণা নিয়ে আগামী দিনের আসল পরিকল্পনা জানাল সংস্থা

ইসরো বেসরকারিকরণের জল্পনা খারিজ করে জানাল, বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ তাদের ক্ষমতা কমানো নয়, বরং মহাকাশ সক্ষমতা বাড়াবে। ইসরো ফোকাস করবে উন্নত গবেষণায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সম্প্রতি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) তাদের বেসরকারিকরণের সমস্ত জল্পনা খারিজ করে দিয়েছে। সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরোকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বা এর গুরুত্ব কমানোর কোনও প্রশ্নই নেই। বরং মহাকাশ খাতে যে সংস্কার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য হল দেশের সামগ্রিক মহাকাশ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং একটি শক্তিশালী ‘ইসরো-নেতৃত্বাধীন জাতীয় মহাকাশ ব্যবস্থা’ গড়ে তোলা।

ইসরো কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বরাবরের মতোই ভারতের উন্নত মহাকাশ গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, স্ট্র্যাটেজিক মিশন, মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চা এবং গভীর মহাকাশে অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির মূল কাণ্ডারী হিসেবে কাজ করে যাবে। বেসরকারি সংস্থা বা প্রাইভেট প্লেয়ারদের মহাকাশ অভিযানে যুক্ত করার আসল উদ্দেশ্য হল ইসরোর স্থান দখল করা নয়, বরং তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করানো। এর ফলে ইসরো তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি শক্তিকে আগামী দিনের জটিল ও ভবিষ্যৎমুখী মহাকাশ কর্মসূচিতে আরও বেশি করে নিয়োজিত করতে পারবে। ‘ইন্ডিয়ান স্পেস পলিসি ২০২৩’ অনুযায়ী, দেশীয় বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র, নতুন স্টার্ট-আপ এবং গবেষণাগারগুলিকে মহাকাশ ব্যবস্থার নানা অংশে যুক্ত করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে তৈরি হয়ে যাওয়া পুরনো বা পরিচিত প্রযুক্তিগুলির গণ-উৎপাদন ও বাণিজ্যকরণের দায়িত্ব সামলাবে বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র। অন্যদিকে, ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা আরও অনেক বেশি জটিল, আধুনিক ও চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্টে মনোযোগ দিতে পারবেন।

এই নতুন রূপরেখার অধীনে ইসরোর মূল ফোকাস থাকবে ফ্রন্টিয়ার বা আগামী দিনের গবেষণামূলক উন্নয়ন, উচ্চমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মানব মহাকাশ যাত্রা (যেমন: ‘গগনযান’ মিশন) এবং পরবর্তী প্রজন্মের নতুন রকেট বা লঞ্চিং সিস্টেম তৈরি। এই পদক্ষেপ ভারতে একটি বিশ্বমানের, প্রতিযোগিতামূলক স্পেস ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রবেশ সহজ হবে।