ব্যুরো নিউজ, ২৪ আগস্ট ২০২৬: হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা দেশ। পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, নিহতের পেট চিরে নাড়িভুঁড়ি বের করে তা ব্যাগে ভরছিলেন অভিযুক্ত স্ত্রী, যা দেখে ফেলেন বাড়ির মালিক। এরপরই আতঙ্কে তিনতলা ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন ওই মহিলা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত ব্যক্তির নাম রাজেশ, যিনি উত্তরপ্রদেশের সীতাপুরের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী বিমলা দেবীকে নিয়ে কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গত সোমবার বিকেলে দম্পতির ঘর থেকে তীব্র চিৎকার শুনে বাড়ির মালিক রিংকু ছাদে যান। সেখানে তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় রাজেশ পড়ে রয়েছেন এবং বিমলা দেবী তাঁর পেট থেকে বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরছেন। এই দৃশ্য দেখে রিংকু স্তম্ভিত হয়ে যান। তাঁকে দেখেই বিমলা দেবী ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। ঘটনার খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তিনটি ধারাল অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, রাজেশের পেটে প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার গভীর ক্ষত ছিল, যার ফলে তাঁর অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে আসে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ময়নাতদন্তে তাঁর যকৃৎ (লিভার)-এর বড় অংশ এবং ডান দিকের কিডনি নিখোঁজ পাওয়া গেছে। বাড়ির মালিকের দাবি, বিমলা দেবী তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দম্পতির মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতো। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। তন্ত্রসাধনা নাকি পারিবারিক বিবাদ, ঠিক কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত স্ত্রীর বয়ান এবং ফরেনসিক রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে তদন্ত এগোচ্ছে।








