ব্যুরো নিউজ, ২৯ জুলাই ২০২৬ : ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলা থেকে গ্রেপ্তার হলেন মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য মিসির বেসরা। মঙ্গলবার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে তাঁকে আরও দুই মাওবাদী নেতার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মিসির বেসরা মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষস্তরের নেতা, তাত্ত্বিক নেতা এবং অপারেশনাল কম্যান্ডার হিসেবে পরিচিত। সংগঠনের অন্দরে তিনি ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে তাঁর আদি বাড়ি। পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যরা হয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন, নয়ত নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন, তাই মিসিরের গ্রেপ্তার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০০৭ সালে তাঁকে ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও, ২০০৯ সালে বিহার পুলিশের হেফাজত থেকে তিনি পালিয়ে যান। সে সময় বিহারের লখিসরাই আদালতে একটি পুরোনো মামলায় হাজিরা দেওয়ার পথে মাওবাদীরা আদালত চত্বরে আচমকা হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। ঝাড়খণ্ড পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ পারশনাথ পাহাড়ের তলার জঙ্গলে মিসির বেসরা কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন বলে গোপন সূত্রে খবর মেলে।
এরপর সিআরপিএফ, গিরিডি ও ধানবাদ পুলিশের একটি যৌথ দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ধানবাদ-গিরিডির সীমানায় টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল থেকে পালাতে গিয়ে রাত ৯টা নাগাদ মিসির ও তাঁর দুই সঙ্গীকে ধরা হয়। মিসিরের ছেলে সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর তরফে তাঁকে বাবার গ্রেপ্তারের খবর বুধবার সকাল পর্যন্ত জানানো হয়নি। ২০ বছর পর বাবার জীবিত থাকার খবর পেয়ে তিনি আনন্দিত।








