ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: নির্বাচনে জয় এসেছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণও গিয়েছে হাতে। কিন্তু এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আমেরিকার ডেমোক্র্যাটদের সামনে—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ কি সত্যিই কমাতে পারবেন তাঁরা? খাদ্যপণ্য, জ্বালানি এবং করের বোঝা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষকে হাতিয়ার করেই ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন পেয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পরিণত করার পালা।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, পেট্রোল-জ্বালানির খরচ এবং করের চাপ সাধারণ পরিবারের বাজেটকে প্রভাবিত করছে। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়গুলিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করা মোটেই সহজ হবে না। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে এলেও হোয়াইট হাউসে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে কোনও বিল কংগ্রেসে পাস হলেও প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা সেই আইন কার্যকর করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অর্থাৎ, খাদ্যপণ্যের দাম কমানো, জ্বালানির খরচ নিয়ন্ত্রণ কিংবা করের বোঝা লাঘবের মতো বিষয়গুলিতে ডেমোক্র্যাটদের শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই চলবে না, প্রয়োজন হবে কার্যকর অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়।
নির্বাচনে ভোটারদের দেওয়া সমর্থন এখন তাঁদের কাছে বড় রাজনৈতিক দায়িত্ব। প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক কতটা কমাতে পারে নতুন কংগ্রেস, আগামী দিনগুলিতে সেদিকেই নজর থাকবে গোটা আমেরিকার।
ডেমোক্র্যাটদের সামনে কী কী প্রতিশ্রুতি?
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের ‘Fighting for an Affordable America’ পরিকল্পনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।
স্বাস্থ্যবিমা: Affordable Care Act-এর আওতায় স্বাস্থ্যবিমার অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ফিরিয়ে আনা এবং মেডিকেডে কাটছাঁটের বিরোধিতা।
জ্বালানি ও আমদানি শুল্ক: ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের উদ্যোগ এবং জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ।
আবাসন: আগামী এক দশকে প্রায় ৪০ লক্ষ নতুন বাড়ি তৈরির প্রস্তাব।
কর ব্যবস্থা: ধনকুবেরদের উপর বেশি কর আরোপ এবং সন্তান থাকা পরিবারগুলির জন্য করছাড় বাড়ানো।
পরিবারের খরচ: খাদ্যপণ্য, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ।
তবে ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হতে পারে।










