ব্যুরো নিউজ, ১৮ জুন ২০২৬ : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহের আলোচনার পর ১৪ দফা সম্বলিত এই চুক্তিতে মার্কিন নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের ওপর ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
একইসঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নয়’ মন্তব্য এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের ‘আঙুল ট্রিগারের ওপরই আছে’ হুঁশিয়ারি চুক্তির ভঙ্গুরতা স্পষ্ট করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা ভেস্তে দিতে পারে এমন তিনটি প্রধান হুমকির মধ্যে ইসরায়েলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তিতে “লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার” ঘোষণা থাকলেও, ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমনকি জি-সেভেন সম্মেলনে ট্রাম্পের সতর্কবাণী সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননে ‘সময়সীমা ছাড়া’ সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার কথা বলেছেন এবং ইরানকে ‘পূর্ণ শক্তি দিয়ে আঘাত হানার’ হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এইচ. এ. হেলিয়ার মন্তব্য করেছেন, “ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, তা ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত হোক বা লেবাননে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে হোক, কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য এটা সবচেয়ে বড় একক হুমকি।” ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহও লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যা চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে তারা মনে করে। এই পরিস্থিতিতে, মার্কিন-ইরান সমঝোতা চুক্তি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় বাড়ছে।








