ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষা নীতিতে স্বস্তি, ২০২৭ থেকে নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের 

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:  কেন্দ্রের আপত্তি থাকলেও সিবিএসই বোর্ডের ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য বড়সড় স্বস্তির নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের মতো ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদেরও আপাতত বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষার নীতি থেকে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

সম্প্রতি এই মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তৃতীয় ভাষা নীতি কার্যকর করতে তারা আগ্রহী। এই ক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেওয়ার পক্ষেও নয় কেন্দ্র। আদালতে কেন্দ্রের দাবি ছিল, সিবিএসই-র প্রায় ৯৯ শতাংশ স্কুল ইতিমধ্যেই তৃতীয় ভাষা নীতি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করে ফেলেছে। মাত্র প্রায় ১.২ শতাংশ স্কুলে পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।

তবে কেন্দ্রের এই যুক্তি পুরোপুরি গ্রহণ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের যে সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া হচ্ছে, ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যুক্তিসঙ্গত নয়। নতুন নিয়ম হঠাৎ করে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের উপর চাপিয়ে দেওয়াও অনুচিত বলে মনে করেছে আদালত। ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে নতুন নিয়ম

শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী স্পষ্ট করে দেন, বৃহত্তর আইনি বিষয়টি আদালত আরও বিশদে পরীক্ষা করবে। তবে আপাতত সিবিএসই-র উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে না। শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের মতো একই ধরনের ছাড় ও স্বস্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ, বর্তমানে যারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে, তাদেরও সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়াদের মতো একই সুবিধা দিতে হবে। এই ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ‘কোনও ভাষা জোর করে চাপানো যাবে না’, NEP প্রসঙ্গ শুনানিতে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র প্রসঙ্গও উঠে আসে। আবেদনকারীদের তরফে সওয়াল করা হয়, জাতীয় শিক্ষানীতিতে কোনও ভাষা জোর করে চাপিয়ে না দেওয়ার নীতির কথা বলা হয়েছে এবং সমস্ত নীতিই সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

নতুন ফ্রেমওয়ার্কে ইংরেজি ভাষাকে ‘অ-দেশীয়’ বা বিদেশি ভাষার তালিকায় রাখার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। আবেদনকারীদের আইনজীবীর বক্তব্য, ভারতের সংবিধান যে ভাষায় লেখা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্ট-সহ দেশের বিভিন্ন আদালতের কাজ যে ভাষায় পরিচালিত হয়, সেই ইংরেজিকে কীভাবে ঐচ্ছিক বা বিদেশি ভাষার তালিকায় রাখা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নতুন নিয়ম চালু করার ফলে শিশুরা যাতে অতিরিক্ত সমস্যার মুখে না পড়ে, আদালত সেটিই নিশ্চিত করতে চায়। এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই এবং তাঁরা দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

তখন বিচারপতি বাগচী বলেন, আদালত সেটাই চাইছে না। শিশুদের শান্তিতে ও স্বাচ্ছন্দ্যে শেখার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বারবার তাদের অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সলিসিটর জেনারেলও আদালতের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, ‘স্বাচ্ছন্দ্য’ বা ‘স্বস্তি’ই উপযুক্ত ।

শুনানিতে তৃতীয় ভাষা সংক্রান্ত বই পাওয়া নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্ক হয়। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় বই বাজারে এবং অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।অন্যদিকে, অভিভাবকদের আইনজীবীর দাবি, বই মূলত অনলাইনে ডিজিটাল ফরম্যাটে পাওয়া গেলেও বহু পড়ুয়ার হাতে এখনও ছাপানো বই পৌঁছয়নি।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি ছয় সপ্তাহের জন্য মুলতুবি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্র ও সিবিএসই-কে তাদের কাউন্টার-অ্যাফিডেভিট জমা দিতে হবে। এরপর পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে রিজয়েন্ডার জমা দিতে হবে।

অর্থাৎ, ষষ্ঠ শ্রেণির তৃতীয় ভাষা নীতি নিয়ে বৃহত্তর আইনি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। আপাতত ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য স্বস্তির ব্যবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।