চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানের বিপর্যয়

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই পাকিস্তানের বিপর্যয়

Share:

ব্যুরো নিউজ,২০ ফেব্রুয়ারি :চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই বিপর্যস্ত পাকিস্তান! ঘরের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের বোলিং, ব্যাটিং এবং ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই যেন ছিল অদক্ষতার ছাপ। নিউ জ়িল্যান্ডের ৩২০ রানের জবাবে পাকিস্তান মাত্র ২৬০ রান করতেই থেমে যায়, এবং ৬০ রানে ম্যাচ হেরে যায়। পাকিস্তান অধিনায়ক মহম্মদ রিজ়ওয়ান টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাঁর দলের বোলাররা কোনোভাবেই কিউয়ি ব্যাটারদের চাপে রাখতে পারেননি। শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ এবং হ্যারিস রউফদের কারোরই কোনো জাদু কাজ করেনি। এরপর পাকিস্তান যখন ৩২১ রান তাড়ায় নামল, তখন তাদের ব্যাটিং ছিল একদম মন্থর। প্রথম ৭ ওভারে তারা মাত্র ১৪ রান করে। এরপরই ম্যাচ হেলে পড়তে শুরু করে কিউয়িদের দিকে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ এও ভারতের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, এর আগেও ভারতের প্রথম ম্যাচ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই ছিল, জানুন বিস্তারিত

কিউয়িদের কয়

পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন আর অতীতের মতো শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত নয়। ইমরান খানের সময়কার আক্রমণাত্মক মানসিকতা আজকের দলে নেই। তবু, এতটা দিশাহীন পাকিস্তান দলকে দেখে মনে হয় অবিশ্বাস্য। চোট সারিয়ে ফিরে আসা শাহিন এবং নাসিমের গতিতে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাদের বলের ধারও কমে গেছে। আর সেই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন উইল ইয়ং, টম লাথাম এবং গ্লেন ফিলিপ্স। নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস একসময় ৩২০ রানে পৌঁছায়, যেখানে ডেভন কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন, এবং ডারিল মিচেল রান পাননি। তবে ইয়ং এবং লাথামের দুর্দান্ত শতরান পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয়।

করাচির ২২ গজে ব্যাটারদের জন্য সহজ ছিল না। দু’ধরনের বাউন্স এবং সুইংয়ের সঙ্গে খেলতে হচ্ছিল। তবুও, নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটাররা পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে দাপটের সঙ্গে সামলায়। ইয়ং ১১৩ বলে ১০৭ রান করেন, এবং লাথাম ১০৪ বলে ১১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন। এদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি, ইয়ং-লাথাম এবং লাথাম-ফিলিপ্সের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।পাকিস্তানের বোলিংয়ের দিকে তাকালে, রিজ়ওয়ান যাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন, তারা নিজেদের কাজ ঠিকমতো করতে পারেননি। শাহিন ১০ ওভারে ৬৮ রান দিয়ে উইকেট পাননি, নাসিম ২ উইকেট নিয়েও ৬৩ রান দিয়েছেন, আর রউফ ২ উইকেট নিলেও ৮৩ রান দিয়েছেন। আবরার আহমেদ ৪৭ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন এবং প্রথম ধাক্কা দিয়েছেন, তবে তার পরের পরিস্থিতি আর ভাল হয়নি।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ঃ রিজওয়ান ও শাহিন আফ্রিদির মধ্যে তীব্র বিতর্ক প্রথম ম্যাচেই

পাকিস্তানের ব্যাটিংও ছিল মন্থর এবং চাপের মধ্যে। ফখর জামান চোট পাওয়ার কারণে ওপেন করতে পারেননি এবং ৪ নম্বরে ব্যাট করতে এসে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করেন। বাবর আজমের ৬৪ রানের ইনিংসও ৯০ বলে আসে, এবং দলের একমাত্র ঝলক দেখান সালমান আগার। ৬টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪২ রান করেন তিনি, তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি তার পক্ষে চলে না।শেষদিকে কিছুটা লড়াই করলেও পাকিস্তানকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। খুশদিল শাহ এবং শাহিন শাহ আফ্রিদির লড়াই কিছুটা দম দেখিয়েছিল, তবে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে উইল ও’রোর্ক ৪৭ রানে ৩ উইকেট নেন, স্যান্টনার ৬৬ রানে ৩ উইকেট নেন, এবং ম্যাট হেনরি ২৫ রানে ২ উইকেট নেন।এভাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের খারাপ পারফরম্যান্স তাদের জন্য এক বড়ো শিক্ষা হয়ে দাঁড়াল।