ব্যুরো নিউজ, ৮ জুন ২০২৬ঃ দিল্লিতে তৃণমূলের এক ডজন সাংসদের স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে আলাদা ‘তৃণমূল ব্লক’ গঠনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়। এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ ও উপহাস করেছেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ থেকে বাঁচতে তৃণমূল সাংসদদের এই আইনি কৌশলকে তিনি ‘চাতুরি’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
অধীর চৌধুরী কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “এই সমস্ত রাজনৈতিক চাতুরি বা কারসাজিতে লিপ্ত না হয়ে, এই মানুষগুলোর পক্ষে সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দেওয়াটাই বোধহয় অনেক ভাল হত।” তাঁর মতে, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর এখন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে বিজেপির শিবিরে চলে যাওয়াই শ্রেয়। তাই এত ঘুরিয়ে নাক না দেখিয়ে, তাঁদের পক্ষে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়াটাই বেশি সমীচীন হত। কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) থেকে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এইভাবে আলাদা একটি উপদল বা গোষ্ঠী তৈরির প্রয়োজন ছিল না। যেহেতু তাঁরা দেশের অগ্রগতির কথা বলছেন, তাই তাঁদের পক্ষে সোজাসুজি বিজেপির সঙ্গেই মিশে যাওয়াটা অনেক ভাল হত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নাটকীয় ভাঙনে তৃণমূল যেমন কোণঠাসা, তেমনই কংগ্রেসের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুণাল ঘোষ যখন দলের সংকটে ‘রক্তে বেইমানি নেই’ বলে বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে দিল্লির বিরোধী শিবির তৃণমূলের এই ভাঙনকে মোটেও ভাল চোখে দেখছে না। পরাজয়ের পর আইনি ঢাল বানিয়ে বিজেপির হাত ধরাকে অধীর যেভাবে ‘লুকোছাপা’ বলে আক্রমণ করলেন, তা আগামী দিনে সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী ব্লকের ওপর নৈতিক চাপ আরও বাড়াবে।








