বসিরহাটের কর বাড়ির ২৬৯ বছরের দুর্গাপূজা: বাবুঘাটের গঙ্গাজল আর সম্প্রীতির মেলবন্ধন

বসিরহাটের ২৬৯ বছরের কর বাড়ির দুর্গাপূজা: বাবুঘাটের গঙ্গাজল ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন। ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় আজও বজায় আছে প্রাচীন রীতি ও প্রথা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বসিরহাটের নলকোড়া গ্রামে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া কর বাড়ির দুর্গাপূজা এবার ২৬৯ বছরে পদার্পণ করল। এই প্রাচীন পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, বাবুঘাটের গঙ্গাজল ছাড়া এখানে প্রতিমা স্থাপন হয় না। একসময় ইছামতির নৌকা করে মাটির কলসিতে আসতো সেই জল, এখন আসে গাড়িতে। এই গঙ্গাজলই সারা বছর ঠাকুর দালানে পূজিত হয়। রাখালদাস কর ও ঠাকুরদাস কর এই পুজোর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

নলকোড়া গ্রামের এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানা পৌরাণিক গল্প ও ঐতিহ্য। যদিও হাজার বাতির ঝাড় লন্ঠন, যাত্রাপালা বা কাঙালি ভোজন এখন অতীত, তবুও এই পুজোর আকর্ষণ আজও অটুট। ডাকের সাজে রুপালি গহনার প্রতিমা তৈরি করেন কুমোরটুলির বংশ পরম্পরার শিল্পীরা। এই বাড়ির এক সদস্য স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুকুর থেকে একটি শিলা পেয়েছিলেন, যা নারায়ণ শিলা রূপে বারো মাস দুবেলা পূজিত হয়। বর্তমানে তপন কর এই পুজোর দায়িত্ব সামলান। পুজোর ক’টা দিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও পরিবারের সদস্যরা ও দর্শনার্থীরা এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিতে ভিড় জমান। একাদশী থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত সমস্ত দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা থাকে। বিশেষ করে বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলায় সব ধর্মের মানুষের এক অসাধারণ সম্প্রীতির মেলবন্ধন দেখা যায়। ঠাকুর দালান থেকে চতুর্দোলায় কাঁধে করে প্রতিমা সোজা ইছামতী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই ঐতিহ্যবাহী পুজো আজও তার স্বকীয়তা ও মহিমা বজায় রেখে চলেছে।