ব্যুরো নিউজ, ১২ জুন ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর এবার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যে এক মেগা অভিযান শুরু হয়েছে। রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি যৌথভাবে এই সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যজুড়ে জাল আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সহ ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আত্মগোপন করে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। এই অভিযান কেবল সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং কলকাতা সহ রাজ্যের সমস্ত প্রধান শিল্প ও শহরাঞ্চলে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই পুলিশের ডিজিপি ও শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে এই অভিযানের রূপরেখা তৈরি করেছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে এবং জাল পরিচয়পত্র চক্রের পর্দাফাঁস করতে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং মালদার মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত জেলাগুলিতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পারাপার রুখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) সঙ্গে সমন্বয় রেখে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।
ড্রোন এবং অত্যাধুনিক থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরার সাহায্যে নদী তীরবর্তী ও কাঁটাতারহীন সীমান্ত পয়েন্টগুলিতে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কলকাতা, হাওড়া ও হুগলির শিল্পাঞ্চলগুলিতেও শ্রমিকদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জাল নথি তৈরি ও সীমান্ত পারাপারের মূল চক্রীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সাঁড়াশি অভিযানের জেরে রাজ্যজুড়ে সক্রিয় অনুপ্রবেশকারী সিন্ডিকেটগুলির মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।








