ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার বড়সড় প্রশাসনিক সংস্কারের পথে হাঁটল। সোমবার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ধর্মীয় শ্রেণিভিত্তিক সমস্ত সরকারি প্রকল্প বন্ধ করার ঘোষণা করা হয়েছে। নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এদিন নবান্নে বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চলতি মে মাসে এই সব প্রকল্পের আওতায় আর্থিক বা অন্যান্য সুবিধা মিললেও, আগামী ১ জুন থেকে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পুজোর অনুদান নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে প্রদত্ত সহায়তামূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হবে। এই মাসে তা চললেও, পরের মাস থেকে পুরোপুরি বন্ধ করা হচ্ছে। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের জেরে পূর্বতন তৃণমূল জমানায় চালু হওয়া বহুল চর্চিত ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের দেওয়া মাসিক ভাতাও এবার বন্ধ হতে চলেছে। নির্বাচনী প্রচারে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির অন্যতম প্রধান স্লোগানই ছিল— ‘ভাতা নয়, ভাত চাই’। কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং রাজ্যের ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক পরিকাঠিকাঠামোকে চাঙ্গা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। সরকার গঠনের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সেই পথেই বড় পদক্ষেপ করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। বিগত সরকারের আমলে ধর্মের ভিত্তিতে বিভিন্ন ভাতা প্রদানকে ‘তোষণের রাজনীতি’ বলে বারবার সরব হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। এবার ক্ষমতায় এসেই সরকার বুঝিয়ে দিল, তারা সংস্কারের পথেই এগোতে চাইছে।








