বাঙালিকে নিয়ে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগের পাল্টা জবাব পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদের

বাঙালির পরিচয়ের নামে বিভাজনের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন তিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: সম্প্রতি বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক ছড়িয়েছে।

সেখানে তিনি পুরুলিয়ার আদিবাসী ও মাহাতো সম্প্রদায়কে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা নিয়ে এবার মুখ খুললেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তিনি সরাসরি গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, বাঙালির পরিচয়ের নামে বিভাজনের রাজনীতি করা উচিত নয়।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লিখেছিলেন, আদিবাসী ও মাহাতোদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চক্রান্ত ব্যর্থ করা বাংলার ভূমিপুত্রদের জাতীয় দায়িত্ব। এর উত্তরে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, বাঙালিকে ভালোবাসতে হলে বিভাজন নয়, ঐক্যের কথা বলতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাঙালিত্ব কি মানুষকে আপন করে নেওয়ার শিক্ষা দেয়, নাকি আলাদা করে দেওয়ার রাজনীতি শেখায়?

বিজেপি সাংসদ আরও বলেন, বাংলার প্রকৃত দর্শন হল সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও ঐক্য। জাতীয় সঙ্গীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে বাংলা সারা দেশের ঐক্য ও বৈচিত্র্যের প্রতীক, সেখানে মানুষকে সংকীর্ণ পরিচয়ের বেড়াজালে আটকে ফেলার চেষ্টা কেন? তিনি মনে করিয়ে দেন, অন্যকে ছোট করার মধ্যে বাঙালির শ্রেষ্ঠত্ব নেই, বরং মনন, সাহিত্য ও উদার সাংস্কৃতিক চেতনাই বাঙালির আসল পরিচয়।

জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো স্পষ্ট করেন যে, পুরুলিয়ার সাঁওতাল, মুণ্ডা, ভূমিজ, মাহাতো বা রাঢ়বঙ্গের মানুষ—সবার নিজস্ব ইতিহাস ও সংস্কৃতির মর্যাদা রয়েছে। তিনি বলেন, বাঙালিত্ব কোনও সংকীর্ণ ভৌগোলিক বা জাতিগত শংসাপত্র নয়, এটি একটি উদার সাংস্কৃতিক চেতনা। রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দের বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি বাংলার ঐতিহ্যকেই অপমান করে।

সবশেষে, সাংসদ জানান তিনি জাত বাঙালি হিসেবে গর্বিত, কিন্তু তাঁর বাঙালিত্ব তাঁকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হতে শেখায়নি, বরং দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যকে সম্মান করতে শিখিয়েছে। বাংলা ও ভারতবর্ষ সবার, তাই বিভাজন নয়, ঐক্যের কথা বলাই বাঙালির প্রকৃত পরিচয়।