ব্যুরো নিউজ, ২১ মে ২০২৬ঃ রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে তৈরি হয়েছে তীব্র আইনি জটিলতা। বকরি ইদের মুখে এই নির্দেশিকা নিয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাগুলির শুনানিতে বিবিধ আইনি ও সামাজিক প্রশ্ন উঠে আসে।
রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী কিংবা স্থায়ীভাবে অক্ষম গবাদি পশুই জবাইয়ের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হবে। এর বাইরে কোনও পশু হত্যা করা যাবে না এবং মাংস কাটার ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। শুনানি চলাকালীন অন্যতম মামলাকারী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, কোনও আইন দীর্ঘ দিন ধরে কার্যকর না হলে তার কার্যকারিতা ক্ষীণ হয়ে যায়। তবে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই যুক্তি খারিজ করে পর্যবেক্ষণে বলে, আইনটি কার্যকর ছিল বলেই এতগুলি মামলা দায়ের করার প্রয়োজন হল।
অন্য এক মামলাকারী প্রশাসনের নির্দেশিকার বাস্তব রূপায়ণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানান, ফিটনেস শংসাপত্র বাধ্যতামূলক হলেও রাজ্যে এর উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। পশু চিকিৎসক কারা, সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়াও, একটি গরুর গড় আয়ু ১৫ বছর হলেও, ঈদের আগে ১৪ বছরের গরু খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে অন্তত এবার আইন শিথিল করার আবেদন জানানো হয়েছে। ১৯৫০ সালের মূল আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।








