ব্যুরো নিউজ, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: সমাজে নারী নির্যাতন ও শিশু ধর্ষণের মতো অমানবিক ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তার প্রতিবাদে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিলেন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার শিবনিবাসের এক পরিযায়ী শ্রমিক দম্পতি। কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে যখন সারা বিশ্ব ধন-সম্পদের আশায় লক্ষ্মী আরাধনায় মগ্ন, ঠিক তখনই নিজেদের আট বছর বয়সী কন্যা শ্রুতিকে লক্ষ্মী রূপে সাজিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে পুরোহিত ডেকে পূজা করলেন তাঁরা। এই অভিনব আরাধনার মাধ্যমে তাঁরা সমাজকে এক জোরালো বার্তা দিতে চেয়েছেন। আর জি করের অভয়ার নৃশংস খুন, কুলতলীর উমাকে ধর্ষণ করে খুন এবং গত দুবছর আগে কৃষ্ণনগরে তরুণীকে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলি সমাজের প্রতিটি মানুষকে ব্যথিত করেছে।
এই ধরনের অসামাজিক ঘটনা রোধ করতে এবং কন্যা সন্তানদের প্রতি সমাজের ভ্রান্ত ধারণা দূর করার লক্ষ্যেই বিশ্বাস দম্পতি এই অভিনব আরাধনার সিদ্ধান্ত নেন। শ্রুতির মা লক্ষ্মী বিশ্বাস জানান, প্রতিটি পরিবারেই মেয়েকে লক্ষ্মী হিসাবে গণ্য করা হয় এবং নারী মাতৃশক্তির আধার। মূলত সেই কারণেই মৃন্ময়ী মূর্তির বদলে ঘরের মেয়েকেও লক্ষ্মী মাতার রূপে আরাধনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, নিজেদের মেয়েকে ভগবান রূপে আরাধনা করার মাধ্যমে তাঁরা সমাজ থেকে শিশু নির্যাতন ও নারী নির্যাতনের মতো অমানবিক ঘটনা চিরতরের জন্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যারা চাকরি হারিয়েছেন বা অধিকার থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্যও মা লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করেছেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা আট বছরের শ্রুতিকে লক্ষ্মীর আদলে সজ্জিত করে মাতৃরূপে পূজা করেন। এলাকার বিশিষ্ট পুরোহিত তরুণ ব্যানার্জি এই উদ্যোগকে বিধিসম্মত বলে উল্লেখ করে বলেন, সমাজ থেকে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে প্রত্যেক পরিবারের উচিত মেয়েকে লক্ষ্মী রূপে পূজা করা। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কুমারী পূজার প্রচলন থাকলেও, কোনো শিশু কন্যাকে লক্ষ্মী রূপে আরাধনা করার ঘটনা সত্যিই নজিরবিহীন। এই কর্মকাণ্ড দেখতে বহু প্রতিবেশী ভিড় জমিয়েছিলেন এবং এই সামাজিক সচেতনতা প্রসারের প্রশংসা করেছেন।








