ব্যুরো নিউজ, ২৬ জুন ২০২৬ : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত অভিযান চলছে বলে অভিযোগ তুললেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, শাসকদলকে কোণঠাসা করতে চারপাশ থেকে সাঁড়াশি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
তিনি বলেন, দলের কোনও অঞ্চল সভাপতি বা নীচুতলার ছোট নেতা যদি কোথাও দলীয় সভা বা বৈঠক করতে চান, তবে পুলিশকে দিয়ে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। পুলিশ সুপার বা থানার বড় বাবুদের ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে, বৈঠক করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তুলে নেওয়া হবে। এই ধরনের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসলে তৃণমূলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চলছে বলে মহুয়ার অভিযোগ। তবে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন মহুয়া। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এ রাজ্যে ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কণ্ঠস্বরকে এভাবে ক্ষমতার জোরে স্তব্ধ করে দেওয়া যায় না। দেশের ইতিহাসে যখন জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, তখনও মানুষের মুখ বন্ধ করা যায়নি, আর আজকেও কেউ তা পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, থানা-পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাঁদের দমানো যাবে না। তৃণমূলের শিকড় মাটির অনেক গভীরে, তা উপড়ে ফেলা কারও সাধ্যে নেই।
এছাড়াও, মিড-ডে মিল এবং নতুন সরকারি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করেন কৃষ্ণনগরের এই সাংসদ। তিনি বলেন, প্রচারের স্বার্থে বিজেপির প্রথম সারির নেতারা রুই-কাতলা মাছ নিয়ে ঘুরলেও, গরিব ঘরের ছেলেমেয়েরা সপ্তাহে দু’দিন ডিমের ঝোল পায়। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী কমানো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।








