মালদার স্কুলে কুকর্মের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে ‘ডিম থেরাপি’ গ্রামবাসীদের

মালদার হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে 'ডিম থেরাপি' দিল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। পঠন-পাঠন ও মিড-ডে মিল বন্ধের অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুন ২০২৬ঃ মালদার মানিকচক ব্লকের হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়লেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পঠন-পাঠন হয় না, মিড-ডে মিলও অনিয়মিত। এমনকি, বিদ্যালয়ের চত্বরে কনডম পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপের দিকে ইঙ্গিত করছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষক আমরুল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মহম্মদ আব্দুল রহিম স্কুলের মধ্যে অনৈতিক কার্যকলাপ চালাচ্ছেন এবং ছাত্রছাত্রীদের ঠিক মতো মিড-ডে মিল দেওয়া হয় না। নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবাশিস মণ্ডলও এই অভিযোগ সমর্থন করে জানান, শিক্ষকরা নিজেদের জন্য চিকেন-মাটন রান্না করে খান। তাঁর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যাগুলি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ বলতে সাহস পেত না, কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারের আগমনে মানুষ প্রতিবাদী হয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষক আব্দুল রহিম পাল্টা অভিযোগ করেছেন যে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের উস্কানিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁকে মারধর করা হয়েছে এবং তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন। প্রধান শিক্ষকও একই সুরে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতের একটি কাজ নিয়ে প্রধানের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ ছিল, যার জেরেই এই হামলা। তিনি পঠন-পাঠনে কোনও গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, মিড-ডে মিল নিয়মিত হয়, তবে সেদিন মাত্র ৭ জন ছাত্রছাত্রী আসায় রান্না বন্ধ রাখা হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর বিভিন্ন স্থানে এমন জনরোষের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।