ব্যুরো নিউজ, ২৯ আগস্ট ২০২৬: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সভা করার অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, হাইকোর্ট এই সভার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল। এর মধ্যে প্রধান ছিল ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা রাখা এবং সভার সময়সীমা দুপুর ১২টা থেকে ৩টে পর্যন্ত কঠোরভাবে বেঁধে দেওয়া।
কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশগুলি সম্পূর্ণভাবে অমান্য করা হয়েছে। সাব-ইনস্পেক্টর অপূ বৈদ্য গত ২৮ অগস্ট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সভা থেকে মমতা এবং আয়োজকরা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সমর্থকদের উস্কানি দিয়েছেন, যার ফলে সভাস্থলে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। কিছু সমর্থক পুলিশের ব্যারিকেড সরিয়ে দেন এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতেও জড়ান। হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সভামঞ্চের পাশের লেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রবল যানজট দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। এমনকি, সভার নির্ধারিত সময়সীমাও মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। হেস্টিংস থানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ছাত্র সংগঠনের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, অন্যের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মচারীকে ডিউটিতে বাধা দেওয়া ও বলপ্রয়োগ এবং রাস্তাঘাটে যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি। প্রসঙ্গত, এই সভার পরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে হাইকোর্টের নির্দেশ ভাঙা হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং শাসক-বিরোধী তরজা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।








