নৈহাটির বড়মা মন্দিরে বড় বদল: ভাঙা হল পুরনো কমিটি, বন্ধ ভিআইপি সংস্কৃতি

নৈহাটির বড়মা মন্দিরে বড় বদল। পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা হল। বন্ধ ভিআইপি সংস্কৃতি, সাধারণ ভক্তদের জন্য স্বস্তি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ই মে ২০২৬ঃ বঙ্গ রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তনের পর এবার নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী বড়মা মন্দিরের (Naihati Boro Maa) কমিটিতে এল বড়সড় রদবদল। নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ মেনে ভেঙে দেওয়া হয়েছে মন্দিরের পুরনো কমিটি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ভিআইপি সংস্কৃতিও চিরতরে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে, আর তার প্রভাব পড়েছে মন্দির পরিচালন ব্যবস্থাতেও।

নৈহাটির নবনির্বাচিত বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, বড়মা মন্দির কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের স্থান থাকবে না। ‘ধর্ম যার যার, বড়মা সবার’ এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছিল। ভিআইপিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগের অভিযোগ বহুবার উঠেছে। বিধায়কের নির্দেশ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বড়মা মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পুরনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আপাতত নতুন কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পুরনো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য মন্দিরের কাজকর্ম পরিচালনা করবেন।

বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর মতো পদাধিকারীদের বাদ দিয়ে বাকি সকলকেই সাধারণ ভক্তদের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দিতে হবে। তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই নতুন কমিটি তৈরি করা হবে যেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবে না, শুধুমাত্র সেবায়েতরা থাকবেন। স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে তিনি কমিটির চেয়ারম্যান পদে থাকবেন। তবে নৈহাটির বাসিন্দাদের আধার কার্ড দেখালে আগে পুজো দেওয়ার যে ছাড়পত্র চালু ছিল, তা এখনও বহাল থাকবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে সাধারণ ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে।