পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের পাশে রাজ্য সরকার: PMFBY-তে অভূতপূর্ব সাড়া, বন্যাদুর্গতদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ

পশ্চিমবঙ্গে PMFBY-তে ৩২ লক্ষ কৃষকের নথিভুক্তি, বন্যাদুর্গতদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ। রাজ্য সরকারের ১ টাকার টোকেন প্রিমিয়ামে কৃষকদের পাশে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬:  পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) প্রকল্পে কৃষকদের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। ২০১৯-২০ সালে পূর্বতন সরকার এই নথিভুক্তিকরণ বন্ধ করে দেওয়ায় রাজ্যের কৃষকেরা দীর্ঘদিন ন্যায্য সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুনরায় এই শস্যবিমা সুবিধা চালু করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের খরিফ মরসুমে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩২ লক্ষ কৃষককে এই বিমার আওতায় এনে পশ্চিমবঙ্গ আজ সমগ্র দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। বন্যাদুর্গত পূর্ব মেদিনীপুরে ৭.২৩ লক্ষ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪.৭৩ লক্ষ, হুগলিতে ১.৬৮ লক্ষ এবং ঝাড়গ্রামে ৪২ হাজার কৃষক নথিভুক্ত হয়েছেন। কৃষকদের ওপর থেকে খরচের বোঝা কমাতে রাজ্য সরকার প্রিমিয়ামের সিংহভাগ বহন করছে।

১ হেক্টর পর্যন্ত জমির জন্য কৃষকদের দিতে হচ্ছে মাত্র ১ টাকা এবং ১ থেকে ২ হেক্টর জমির জন্য একর প্রতি নামমাত্র ১০০ টাকা। বাকি সমুদয় প্রিমিয়াম রাজ্য সরকার প্রদান করছে। গত আগস্ট থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে বিশেষ শিবির আয়োজনের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের বিমা সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। আগস্ট মাসের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে বিমা সংস্থাগুলিকে ‘মিড-সিজন অ্যাডভার্সিটি’-র মূল্যায়ন চূড়ান্ত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঋণগ্রহীতা কৃষকদের নথিভুক্ত করার শেষ সময়সীমা ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা নথিভুক্তির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করবে।