সই জাল কাণ্ডে বিধানসভায় সিআইডি অভিযান, অভিষেকের বয়ানে অসঙ্গতি নিয়ে জল্পনা

সই জাল কাণ্ডে বিধানসভায় সিআইডি অভিযান। অভিষেকের বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তদন্তকারীদের সন্দেহ। রেজোলিউশন কপির খোঁজে তল্লাশি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৫ জুন ২০২৬ঃ বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে তদন্তের জট খুলতে সোমবার দুপুরে হানা দিল সিআইডি আধিকারিকরা। টানা দু’দফার ম্যারাথন জেরা এবং বিধায়কদের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের পরও তদন্তকারী সংস্থা সন্তুষ্ট না হওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়। সিআইডি-র মূল লক্ষ্য বহু বিতর্কিত সেই ‘রেজোলিউশন কপি’ উদ্ধার করা, যার হদিশ পেতে বিগত কয়েকদিন ধরে গোয়েন্দারা কার্যত গলদঘর্ম হচ্ছেন। তদন্তের স্বার্থে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই দু’বার তলব করেছে সিআইডি।

সূত্রের খবর, গত রবিবার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সঙ্গে অভিষেককে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময় অভিষেকের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়েও এই রেজোলিউশন কপির খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল, কিন্তু গোয়েন্দারা খালি হাতেই ফিরেছিলেন। অভিষেককে বারবার এই নথির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও, তিনি সদুত্তর না দিয়ে ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে গেছেন বলে অভিযোগ। গোটা বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের পদাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।

গত ৬ মে কালীঘাটে দলের একটি বৈঠকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। পরে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিধানসভা সচিবালয়ে একটি রেজলিউশন বই জমা দেওয়া হয়, যেখানে ৭০ জন বিধায়কের উপস্থিতি এবং তাঁদের স্বাক্ষর থাকার কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু গত ২৭ মে তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দাবি করেন, ওই ধরনের কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়নি এবং জমা দেওয়া নথির একাধিক স্বাক্ষর সন্দেহজনক। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে সিআইডি। সই জাল কাণ্ডের মূলে পৌঁছাতে এবং ঘটনার সূত্রপাত কোথায়— তা জানতেই স্পিকারের সচিবালয়ের তথ্য ও রেজোলিউশন কপির খোঁজে সিআইডি-র এই বিধানসভা অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।