রাজ্যসভা ছেড়ে সুখেন্দুর ফেসবুকে বোমা! সৌগতকে ‘ফিশ ফ্রাই খাওয়া লম্পট’, মমতাকে ‘ডাকাত রানি’ কটাক্ষ

সুখেন্দু শেখর রায়ের ফেসবুক পোস্টে মমতা, অভিষেক ও সৌগত রায়কে তীব্র আক্রমণ। সৌগতকে ‘লম্পট সাংসদ’, মমতাকে ‘ডাকাত রানি’ ও অভিষেককে ‘অরণ্যদেব’ তোপ।

Share:

ব্যুরো নিউজ , ১১ জুন ২০২৬ : রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এবার সরাসরি ফেসবুক পোস্টে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বেনজির আক্রমণ করলেন সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর এই বিস্ফোরক পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দমদমের সাংসদ সৌগত রায়কে ‘লম্পট সাংসদ’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ডাকাত রানি’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘অকাল কুষ্মাণ্ড ভাইপো অরণ্যদেব’ বলে তোপ দাগেন তিনি।

সুখেন্দুবাবু তাঁর পোস্টের শুরুতেই মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্যের অমর লাইন টেনে শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘একে একে শুকাইছে ফুল, নিভিছে দেউটি’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন যে, কালবৈশাখীর ঝড়ে আক্রান্ত হয়ে শাসকদলের ঘরদোর ভেঙে পড়েছে। ল্যাটিন প্রবাদ ‘VOX POPULI, VOX DEI’ অর্থাৎ মানুষের কণ্ঠই ঈশ্বরের কণ্ঠ উল্লেখ করে তিনি মনে করিয়ে দেন, মানুষকে অগ্রাহ্য করার পরিণতি কতখানি ভয়াবহ হতে পারে। আরজি কর হাসপাতালের অভয়া কাণ্ডের রাতের ঘটনার উল্লেখ করে সুখেন্দু রায় লেখেন, “অভয়ার মা-বাবা মেয়ের মরা মুখ দেখার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিনীত আবেদন জানাচ্ছেন, ততক্ষণ হাসপাতালের প্রিন্সিপালের চেয়ারে বসে ফিশ ফ্রাই খাচ্ছে এক লম্পট সাংসদ, পারিষদদের সাথে।” নাম না করলেও এই তির যে সৌগত রায়ের দিকেই, তা স্পষ্ট। তিনি সৌগত রায়ের নারদা কাণ্ডে ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন।

২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসের গণ-বিস্ফোরণের কথা উল্লেখ করে সুখেন্দু রায় বলেন, সীমাহীন দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নির্যাতন এবং স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে মানুষ এবার চূড়ান্ত জবাব দিয়েছেন। তিনি কটাক্ষ করে আরও লেখেন যে, অস্তিত্ব সংকটে পড়ে ‘ডাকাত রানি’ এখন পুরনো দলের সভানেত্রীর কাছে আকুলিবিকুলি করছে, আর তাঁর ‘অরণ্যদেব’ ভাইপো রাজনৈতিক পুনর্বাসনের আশায় বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছে। এই পোস্ট তৃণমূলের অন্দরের চরম ডামাডোলকে আরও প্রকট করে তুলেছে।