ব্যুরো নিউজ, ৯ জুন ২০২৬ঃ রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল— এরপরের রোডম্যাপ বা চালটি কী হতে চলেছে? সোমবার এই নিয়ে নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, ভেতরের সুনির্দিষ্ট আইনি ও রাজনৈতিক পরিকল্পনাটি এবার সামনে আসছে। বাংলায় বিধানসভা এবং দিল্লিতে লোকসভা— দুই প্রান্তেই মমতা-অভিষেকের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৈরি হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের দুটি শক্তিশালী ‘বিদ্রোহী ব্লক’। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছেন। এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছেও এনডিএ-পন্থী ব্লকের স্বীকৃতি চাইবেন মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ঋতব্রত-র ব্লকের মতই এই ব্লকও দাবি করবে, তাঁরাই আসল তৃণমূল। এবং লোকসভায় তাঁরা এনডিএ-র পাশে থাকবেন।
এই দুই ব্লকের যৌথ রণকৌশল হল— একজোটে ময়দানে নেমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল তৃণমূলকে ‘নকল’ প্রমাণ করা। বিধানসভায় স্পিকার ইতিমধ্যেই ঋতব্রতদের মান্যতা দিয়েছেন। এবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা যদি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিঠিতে সিলমোহর দিয়ে তাঁদের ব্লককে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে দেন, তবে সংসদীয় ও পরিষদীয়— দুই ক্ষেত্রেই অভিষেক-মমতার ক্ষমতা কার্যত খাতা-কলমেই শেষ হয়ে যাবে। লোকসভার সবুজ সঙ্কেত মিললেই ঋতব্রত ও কাকলিরা একযোগে দেশের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে পারেন।
কমিশনের কাছে গিয়ে তাঁদের যুক্তি হবে— তাঁরাই ‘আসল তৃণমূল’ কারণ নির্বাচিত বিধায়ক ও সাংসদদের সিংহভাগই তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। বিধায়ক দলের অঙ্ক: তৃণমূলের মোট ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে এই মুহূর্তে ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক রয়েছেন ঋতব্রতদের শিবিরে। লোকসভায় সাংসদ দলের অঙ্ক: লোকসভার মোট ২৮ জন নির্বাচিত তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনের বেশি অর্থাৎ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে কাকলিদের ব্লকে। এই ‘মেজরিটি’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোর দেখিয়েই নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা দাবি তুলবেন— তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক (জোড়ফুল) এবং দলের সভাপতি ও সংগঠন তৈরির আইনি অধিকার যেন তাঁদের হাতেই সঁপে দেওয়া হয়।







