ঋণের বোঝা মোকাবিলায় শিল্পায়নের দিশা: স্বপন দাশগুপ্তের প্রথম বাজেটে শুভেন্দু সরকারের ৮ ফোকাস পয়েন্ট

ঋণের পাহাড় মোকাবিলায় শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্পায়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও ডেট ম্যানেজমেন্টে কী কী চমক থাকছে?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর সবার নজর এখন ২২ জুনের দিকে। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিধানসভা ভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর এটিই হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম অর্থনৈতিক দর্শনের দলিল। নবান্নের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল রাজ্যের বাস্তব আর্থিক পরিস্থিতি। পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে এই মুহূর্তে প্রায় ৭.১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে, যা দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। বছরে প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা শুধুমাত্র পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেই চলে যায়।

এই বিপুল ঋণ এবং সীমিত আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে দাঁড়িয়ে শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়ন, অন্যদিকে সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প— এই দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে নতুন সরকার, সেটাই এখন বড় পরীক্ষা। সরকারি সূত্র এবং বিশেষজ্ঞদের ইঙ্গিত অনুযায়ী, বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য আর্থিক ঘাটতি কমানোর একটি মধ্যবর্তী ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা করতে পারেন। অর্থ দফতরের অধীনে একটি বিশেষ ‘ডেট ম্যানেজমেন্ট সেল’ তৈরি হতে পারে।

নতুন কর না চাপিয়ে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানোর দিকেই সরকার ঝুঁকবে। বালি ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ থেকে রাজস্ব বাড়াতে কঠোর নজরদারিতে স্বচ্ছ ই-নিলাম ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা হতে পারে। বন্ধ কলকারখানার অব্যবহৃত জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজে দিয়ে মূলধন সংগ্রহের নীতিও ঘোষিত হতে পারে। শিল্পে বিনিয়োগ টানতে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা এবং কলকাতা, দুর্গাপুর, হলদিয়া, শিলিগুড়িকে ঘিরে বিশেষ শিল্প করিডোর তৈরির ঘোষণা থাকতে পারে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিক্ষেত্রেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।