ব্যুরো নিউজ, ২১ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজোর মহাষ্টমী ও মহানবমীর পর আসে দশমী। এই দিনটি কেবল দেবী দুর্গার বিদায়ের দিন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘বিজয়া’ শব্দটি, যা এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রতি বছরই এইদিন উমা কৈলাসে ফিরে যান, আর মর্ত্যবাসী তাঁকে বিদায় জানায় অত্যন্ত বিষণ্ণ মনে। কিন্তু কেন এই দিনটিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয়? এর পেছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক কাহিনি।
পুরাণ মতে, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন এই শুক্লা দশমী তিথিতেই। টানা নয় দিন ও নয় রাত্রি যুদ্ধের পর দশমীর দিনে মহিষাসুরের বিনাশ হয়, যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়কে সূচিত করে। এই বিজয়কেই স্মরণ করে দিনটি ‘বিজয়া দশমী’ নামে পরিচিত।
অন্যদিকে, রামায়ণের কাহিনিতেও বিজয়া দশমীর উল্লেখ পাওয়া যায়। ত্রেতা যুগে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করে শ্রীরামচন্দ্র সীতাকে উদ্ধার করেছিলেন এই দিনেই। দেবী দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে রাম রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেন, যা তাঁর বিজয়কে চিহ্নিত করে।
আবার মহাভারত অনুসারে, পাণ্ডবরা তাঁদের ১২ বছরের বনবাস ও ১ বছরের অজ্ঞাতবাস শেষে এই দশমীর দিনেই শমীগাছ থেকে লুকানো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করেন এবং নিজেদের পরিচয় ঘোষণা করেন। এছাড়াও, বৌদ্ধ ধর্মে সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের বিজয় এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণের সঙ্গেও এই দিনটির যোগসূত্র রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
এই সকল বিজয় কাহিনি একত্রিত হয়েই দশমীকে ‘বিজয়া দশমী’র মহিমা দান করেছে, যা কেবল দেবীর বিদায় নয়, বরং অশুভের উপর শুভের চিরন্তন জয়কে উদযাপন করে।








