ব্যুরো নিউজ, ২৭ মে ২০২৬ঃ শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজতে যারা ভালোবাসেন, তাদের জন্য ডুয়ার্সের এক স্বল্প পরিচিত গ্রাম বুড়ি খোলা হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। জঙ্গল, পাহাড়, নদী আর কুয়াশার চাদরে মোড়া এই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মালবাজার পেরিয়ে গরুবাথানের দিকে খানিক এগোলেই এই অফবিট ডেস্টিনেশনের সৌন্দর্য শুরু হয়।
মসৃণ পিচের রাস্তার দু’পাশে সবুজের আহ্বান মন মুগ্ধ করে তোলে। বুড়ি খোলার মূল আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক পরিবেশ। এখানে এলে দেখা মিলবে হাতির পাল, ময়ূরের দল আর পাখিদের কলতান। পাহাড়ি নদী বুড়ি খোলার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে, যার ওপারেই শাকামের ঘন জঙ্গল, হাতিদের আস্তানা। হোমস্টের সামনে থেকেই এই পাহাড়ি নদীর কলতান শোনা যায়, যা এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়। বর্ষাকালে এখানকার শ্যামলিমা উপভোগ করা গেলেও, জঙ্গল সাফারি বন্ধ থাকে।
তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের পর জঙ্গল খুলে গেলে শাকামের জঙ্গলেও গাড়ি নিয়ে ঘোরার সুযোগ মেলে, যা অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ অভিজ্ঞতা। পর্যটকদের থাকার জন্য বুড়ি খোলায় একটি মাত্র হোমস্টে রয়েছে, তাই আগে থেকে বুকিং করে যাওয়া বাঞ্ছনীয়। ডামডিম হয়ে জঙ্গলপথে গাড়ি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে হোমস্টের লোকজনকে সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ তারা পথের সঙ্গে বেশি পরিচিত এবং জঙ্গলপথের বিপদ সম্পর্কে অবগত।
হাতে দু’দিন সময় থাকলে বুড়ি খোলার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি লাভা ও কালিম্পংয়ের কোনো গ্রামেও ঘুরে আসা যেতে পারে। নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে এবং এক অনন্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে বুড়ি খোলা এক অসাধারণ ঠিকানা।








