মেমারিতে শ্মশানের জমি ‘চুরি’ করে নার্সিংহোম, বাগানবাড়ি! কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা

মেমারিতে শ্মশানের জমি দখল করে নার্সিংহোম, বাগানবাড়ি ও পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি, তদন্ত হলে অনেক রাঘব বোয়াল ধরা পড়বে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৯ মে ২০২৬ঃ মেমারিতে শ্মশানের জমি দখল করে নার্সিংহোম, বাগানবাড়ি ও পার্টি অফিস তৈরির অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপির অভিযোগ, বাগিলা মৌজার ২.০২ একর শ্মশানের জমিতে বেআইনিভাবে দোতলা বিল্ডিং তৈরি করে সেখানে নার্সিংহোম চালানো হচ্ছে। এছাড়াও, ওই জমিতেই একটি বাগানবাড়ি ও পার্টি অফিসও গড়ে তোলা হয়েছে।

বিজেপির মেমারি নেতা ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ তুলে বলেন, “দাগ ও জেএল নম্বর সহ শ্মশানের জমির সমস্ত নথি আমাদের কাছে রয়েছে। সরকারি খাতায় শ্মশান হিসেবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে নির্মাণকার্য চলল, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া দরকার।” তিনি আরও দাবি করেন, মেমারি শহরের এক জনপ্রতিনিধিই এই দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছেন এবং তাঁর আমলেই সরকারি জায়গা দখলের ঘটনা বেড়েছে।

নতুন বাড়ি নির্মাণে কাটমানি সংস্কৃতির স্রষ্টাও তিনি। যদিও তৃণমূল নেতা দেবু টুডু এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, “দল কখনই দুর্নীতিকে সমর্থন করে না। যাঁরা এসব করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। শ্মশানের জায়গায় কোনওরকম নির্মাণ করা যায় না।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতারই শাসন চলত। তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ছিল না কারও।

শ্মশানের জমি দখল করে নির্মাণ শুরু হওয়ার সময় গুঞ্জন উঠলেও, কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং এর পিছনে কোনও সরকারি আধিকারিকের যোগসাজশ থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপির দাবি, এই তদন্ত শুরু হলে অনেক রাঘব বোয়াল জালে জড়াবেন।