ব্যুরো নিউজ, ৪ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে ফের এক নতুন মোড়, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে চরম কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ এবং বিধানসভার বিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘটনা দলের ঐক্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করার পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী প্রবীণ তৃণমূল নেতারা এই বিদ্রোহের তীব্র নিন্দা করেছেন।
প্রবীণ বিধায়ক কুনাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে বিধায়করা তৃণমূলের টিকিটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে জয়ী হয়েছেন, তাঁরা একজন বহিষ্কৃত নেতাকে দলনেতা মানতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনিই এই দলের জন্ম দিয়েছেন, তিনিই তৃণমূলের মা।” সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিদ্রোহী বিধায়কদের তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, “যাঁরা আজ ‘দিদি’-র সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন, তাঁদের বিচার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই করবেন।”
দোলা সেন এবং মদন মিত্রের মতো পুরোনো অনুগামীরাও একই সুরে বলেছেন, তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাধারণ মানুষ। এদিকে, গত ৪ মে-র নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দল ‘বিদ্রোহ দমন’ এবং সাংগঠনিক রদবদল ঘটাতে এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার রাজ্যজুড়ে দলের জেলা, ব্লক এবং সমস্ত স্তরের শাখা সংগঠন ও কমিটিগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে দল বিলুপ্তির জল্পনা ছড়ালেও, কুনাল ঘোষ তা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে শুধুমাত্র কমিটিগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন করে এগুলি গঠন করা হবে। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক রদবদল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।








