ব্যুরো নিউজ , ৪ জুন , ২০২৬ : ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকে করা মন্তব্যের জেরে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের করলেন আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ।
তাঁর অভিযোগ, মমতার ওই মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে বিপজ্জনক, যা দেশের ঐক্য ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে ধাক্কা দিতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অবনতি হতে পারে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের সংবিধান, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্রবাহিনীর ‘ঐক্য, নিরপেক্ষতা, বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের ‘প্ররোচনামূলক ও সংবিধান বিরোধী’ মন্তব্য জনগণ ও সংবাদমাধ্যমের সামনে কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিরুদ্ধে করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং দুই সার্বভৌম দেশের মধ্যে বৈরিতা সৃষ্টি হতে পারে। এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে মমতা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে বিপদে ফেলেছেন।
উল্লেখ্য, ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বাংলাদেশি ‘খুনি’কে এসটিএফের গ্রেফতারি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন কলের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তিনি নাম প্রকাশ না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে এই ঘটনা দেশের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছিল। আইনজীবীর অভিযোগ, মমতার এই মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা ছড়াতে পারে। রিঙ্কু চট্টোপাধ্যায় সিংহ জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য রাজ্যের শীর্ষ আদালতে যাবেন। এর আগেও এই আইনজীবী মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যেখানে রেড রোডের ইদের অনুষ্ঠানে তাঁর মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ ছিল।








