৩১ মিনিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ হারালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: সাসপেন্ড না করেই নতুন কমিটি গঠন

৩১ মিনিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ হারালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাসপেন্ড না করেই নতুন কমিটি গঠন করে তাঁকে সরানো হল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২২ জুন ২০২৬ঃ সোমবার নিউ টাউনের নোভোটেল হোটেলে তৃণমূলের এক বিশেষ বৈঠক মাত্র ৩১ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ হয়। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছিল, অনেকেই মনে করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হতে পারে। তবে বৈঠকের পর জানা যায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও উচ্চারণ করেননি। বরং, এই সেশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা। দীর্ঘদিন ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই কমিটির সদস্য হিসেবে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে দলের বর্তমান সাংবিধানিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দলের সংবিধানের ২০ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা বাধ্যতামূলক। শেষবার ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কমিটি গঠিত হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন ঋতব্রত। বৈঠকে প্রথমে ১০ জনের একটি নতুন কর্মসমিতির প্রস্তাব দেওয়া হয়, যেখানে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, বিপ্লব মিত্র, আখরুজ্জামান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দিপন সাহা, রথিন ঘোষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা ছিলেন।

এরপর অরূপ রায়কে দলের নতুন চেয়ারম্যান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রইলেন না। তাঁকে সরাসরি সাসপেন্ড না করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমেই পদ থেকে সরানো হয়েছে। এই আকস্মিক রদবদল রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে যেতে পারে দল, যা আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে আরও জটিলতা বাড়াতে পারে।