ব্যুরো নিউজ, ২৭ জুন ২০২৬ঃ তারাতলা বিপর্যয়ে মৃত্য়ুমুখ থেকে ফিরে এসেছেন ঠিকাদার দেবাশিস দাস। গত বুধবারের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাঁকে। এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আর এই ধরনের নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। দেবাশিস বলেন, “আমি বেঁচে গেলেও, আমার আনা দু’জন শ্রমিকের প্রাণ চলে গেল। এই শোক আমি ভুলতে পারছি না, ওঁদের পরিবারের কাছে আমি কী জবাব দেব?”
গত বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ একটি গোডাউনের ছাদ ধসে পড়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে ছিলেন দেবাশিস। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাণে বাঁচলেও, দুই সহকর্মীকে হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। চোখ বুজলেই বুধবার দুপুরের ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভেসে উঠছে তাঁর। তিনি জানান, “দুটো ছেলের প্রাণ চলে গেল। ওঁদের আমি এনেছিলাম। তাঁদের তো আর পরিবারের কাছে ফেরাতে পারব না।” দেবাশিস সরকারের কাছে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার আমাদের অনেক সাহায্য করেছে, কিন্তু যাঁরা প্রাণ হারালেন, তাঁদের অর্থসাহায্য করা হোক, এটাই চাই।” ঠিকাদার দেবাশিসের দাবি, ঢালাইয়ের কাজের জন্য দিনে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু তারাতলার গোডাউনে চার দিনের কাজ ছিল এবং দৈনিক হাজার টাকা মজুরিতে চুক্তি হয়েছিল, যা ধর্মেন্দ্র সাহানি নামে এক ব্যক্তি করেছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেবাশিসের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে তিনি এই পেশা ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই প্রতিজ্ঞা নির্মাণ শিল্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।








