ব্যুরো নিউজ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের হওয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আমি ক্লান্ত!” এই পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনওরকম কড়া পদক্ষেপের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। আদালত এও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে অভিষেকের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়েরের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।
নতুন মামলার শুনানিতে বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেও এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যা থেকে অভিষেকের সরাসরি যোগের প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। একই ব্যক্তির বারবার অভিযোগ করা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। শুনানিতে উঠে আসে যে, অভিযোগকারী অভিষেকের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং তাঁর কাছে দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় জানান, আরও মামলা রয়েছে, যার জন্য তাঁকে বারবার আদালতে আসতে হতে পারে। আদালত জানিয়েছে, তদন্তে পুলিশের কোনও বাধা নেই। তদন্ত চলবে এবং প্রয়োজন হলে চার্জশিটও জমা দেওয়া যাবে। তবে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না। তাঁকে নোটিস দেওয়া যেতে পারে এবং তদন্তে সহযোগিতার জন্য হাজির হতে হবে।
অভিষেক বর্তমানে বিদেশে থাকলেও দেশে ফেরার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে। আদালতের মতে, অভিযোগে চিকিৎসাগত গাফিলতির বিষয় থাকতে পারে, কিন্তু সেই গাফিলতির সঙ্গে অভিষেকের সরাসরি যোগের প্রাথমিক ভিত্তি এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত যখন প্রাথমিক পর্যায়ে, তখন তদন্তের আগেই তাঁকে অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। আদালতের এই কড়া বার্তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।








