ব্যুরো নিউজ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে বড়সড় রদবদল আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার সমস্ত উপভোক্তা তালিকা বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই তালিকাগুলিতে বিস্তর গোঁজামিল ছিল এবং বহু অযোগ্য ব্যক্তি ঘনিষ্ঠ মহলের সুপারিশে সুবিধা পাচ্ছিলেন। এই অনিয়ম রুখতেই বর্তমান সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
নবান্নে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আজ জানান, “বিগত সরকারের যাবতীয় ওয়েটিং লিস্ট আজ থেকে বাতিল করে দেওয়া হল। আমরা আবার জনকল্যাণ শিবির করব। সেখানে গিয়ে সকলে নতুন করে আবেদন জানাবেন।” তিনি আরও বলেন, “আগে আমরা অনেক জায়গায় দেখেছি, একজন পুরুষ স্বামীহীন ভাতা পাচ্ছেন। এমনটা তো চলতে পারে না।” এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা আনতে নতুন করে আবেদনপত্র যাচাই করে যোগ্যদের হাতে ভাতা তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত অভাবী ও যোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, রাজ্য সরকার এই তিন ধরনের ভাতার অঙ্ক ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করেছে। আগস্ট মাস থেকে বর্ধিত এই ভাতা কার্যকর হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপভোক্তারা এই নতুন হারে টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে বর্ধিত ভাতার চেক তুলে দেন।
তিনি বলেন, যাঁরা জনকল্যাণ শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, তাঁদের আবেদন ও নথি যাচাই করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভাতা দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং প্রকৃত দুঃস্থ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছাবে বলে মনে করা হচ্ছে।








