ব্যুরো নিউজ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: মালদহের রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের মহানন্দাটোলার মুলিরাম টোলায় গঙ্গার ভয়াবহ ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দির। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং লাগাতার ভাঙনের জেরে এই প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই এই ঘটনাকে আগামী দিনের বড় বিপদের অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক দিন ধরেই মালদহে গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বাড়ছিল। সোমবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে মানিকচকের ভূতনির ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। সেতুর কাছে থাকা সংযোগকারী বাঁধের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় মানিকচক-সহ মালদহের মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভূতনি দ্বীপ। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
মুলিরাম টোলার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় দেড়শো বছর ধরে এই মন্দিরটি ওই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। দীর্ঘদিনের এই প্রাচীন মন্দির চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে শোক ও আতঙ্ক গ্রাস করেছে এলাকার মানুষকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্দিরটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ছবি ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে অনেকেই শিউরে উঠছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন তৎপর হয়েছে। জেলাশাসক এবং সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুর ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেচ দফতরের আধিকারিকরা জল ও ভাঙনের পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প বাঁধ তৈরির কাজ শুরু করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে এবং আশপাশের বসতিতেও বিপদ নেমে আসতে পারে। গঙ্গার ভাঙন ও জলস্তর বৃদ্ধিতে মালদহে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।








