ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মানকর গ্রাম যেন এক জীবন্ত ইতিহাস। চারপাশে জনবসতিহীন ফাঁকা মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মন্দির আজও দু’শো বছরের পুরোনো এক বিস্ময়কে ধারণ করে আছে।
এই মন্দিরে প্রতিদিন নিয়ম মেনে পূজা হলেও, শরৎকালে দুর্গাপূজা এলেই এর চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন গ্রামের প্রাক্তন বাসিন্দারা, যাঁরা সময়ের স্রোতে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন তাঁদের ঐতিহ্যের শিকড়।
স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, প্রায় দু’শো বছর আগে এই এলাকায় ডাকাতদের ভয়াবহ দাপট ছিল। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে গোটা গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়লেও, গ্রামবাসীরা তাঁদের আরাধ্য দেবী দুর্গাকে বিস্মৃত হননি। বরং, এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা দেবীর আরাধনার ধারাটি বিচ্ছিন্ন হতে দেননি। সেই থেকেই শুরু হয় এক অনন্য পরম্পরা, যা আজও সমানভাবে বর্তমান।
যেখানেই থাকুন না কেন, প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় তাঁরা ফিরে আসেন মানকরের এই পুরোনো মন্দিরে, একাত্ম হন নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে। জনশূন্য প্রান্তরে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরটি আজও অতীতের সাক্ষী, এক নীরব ইতিহাসের ধারক। এটি কেবল একটি উপাসনালয় নয়, এটি পারিবারিক বন্ধন, ভক্তি এবং হারানো গ্রামের স্মৃতির এক মূর্ত প্রতীক।
দুর্গাপূজা ২০২৬-এর আগমনী বার্তায় আবারও জেগে উঠবে এই নিস্তব্ধ প্রান্তর। মা দুর্গার আগমনে উৎসবের আবহে মেতে উঠবেন শত শত মানুষ, ফিরিয়ে আনবেন হারিয়ে যাওয়া গ্রামের স্পন্দন ও প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এই অনন্য ইতিহাস বুঝিয়ে দেয়, বাংলার লোকায়ত জীবনে দুর্গাপূজার শিকড় কতটা গভীরে প্রোথিত এবং কীভাবে তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের আত্মায় মিশে আছে।








