‘ভারত গণতন্ত্রের জননী, দেশে বিতর্কের অবাধ পরিবেশ’, দিল্লিতে বার্তা মোদির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিল্লিতে ভারতকে 'গণতন্ত্রের জননী' হিসেবে আখ্যা দিলেন। তিনি বলেন, দেশে বিতর্কের অবাধ পরিবেশ রয়েছে, যেখানে ১০০টিরও বেশি ভাষা ও বিশাল ডিজিটাল ব্যবহারকারী সক্রিয়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার দিল্লিতে ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে যোগ দিয়ে ভারতকে ‘গণতন্ত্রের জননী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর ভাষণে মোদি জোর দিয়ে বলেন, ভারতে বিতর্কের এক অবাধ ও প্রাণবন্ত পরিবেশ বিদ্যমান, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বিশ্ব মঞ্চে ভারতের সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মোদি তাঁর বক্তব্যে ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য তুলে ধরে বলেন, এই দেশে ১০০টিরও বেশি ভাষা প্রচলিত।

এছাড়াও, প্রায় ৮০ হাজার নিবন্ধিত সংবাদপত্র ও প্রকাশনা নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয় এবং ১ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে, যা জনগণের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয় এবং বিতর্কের ক্ষেত্র তৈরি করে। এই পরিসংখ্যানগুলি ভারতের সংবাদমাধ্যমের বিশাল পরিধি এবং জনগণের মধ্যে তথ্যের অবাধ প্রবাহের ইঙ্গিত দেয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভারত এক বিশাল সংখ্যক অনলাইন ব্যবহারকারীর আবাসস্থল। দেশে ৫০ কোটিরও বেশি ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছেন, যাঁরা বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন এবং আলোচনা-বিতর্কে অংশ নেন। মোদি ব্যাখ্যা করেন, ভারতের জনগণ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা ও নানা দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্কে অংশ নিতে অভ্যস্ত, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে। তাঁর মতে, সমাজে ডিজিটাল শক্তি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও প্রসারিত করছে। এই ফোরামে মোদির উপস্থিতি ভারতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে বিশ্ব দরবারে আরও একবার প্রতিষ্ঠিত করল, যেখানে তিনি ভারতের গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।