দুর্গাপুজোয় জয়া-বিজয়া: শাস্ত্র ও প্রাচীন রীতি অনুযায়ী তাঁদের গুরুত্ব.

দুর্গাপুজোয় মা দুর্গার পাশে জয়া-বিজয়া কেন? কালিকা পুরাণ, শিব পুরাণ ও তন্ত্রশাস্ত্রে তাঁদের গুরুত্ব। বারোয়ারি পুজোয় অনুপস্থিত হলেও শাস্ত্রীয় রীতিতে তাঁদের স্থান।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে ঘরের মেয়ে উমার বাপের বাড়ি আসা, সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ। তবে বাংলার কিছু বনেদি বাড়ি এবং ওড়িশার প্রাচীন রীতিতে দেবী দুর্গার পাশে দেখা যায় তাঁর দুই সখী জয়া ও বিজয়াকে। প্রশ্ন ওঠে, কেন এই ভিন্নতা? শাস্ত্র ও প্রাচীন রীতিতে তাঁদের গুরুত্বই বা কতটা?

কালিকা পুরাণ ও দেবী পুরাণ অনুযায়ী, পার্বতীর কৈলাস যাত্রায় তাঁর অষ্টসখীর মধ্যে জয়া ও বিজয়া ছিলেন সবচেয়ে প্রিয়। শিব পুরাণেও তাঁদের উল্লেখ পাওয়া যায়। বর্ধমানের গুসকরার মাঝিবাড়ির পুজোয় ৩০০ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে, যা ওড়িশা থেকে বাংলায় এসেছে। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিমলা মন্দিরেও দেবী দুর্গার দু’পাশে জয়া ও বিজয়াকে দেখা যায়।

জ্যোতিষ সম্রাট দেবজ্যোতি মজুমদারের মতে, শাস্ত্রমতে জয়া-বিজয়ার পুজো ছাড়া দেবীর আরাধনা অসম্পূর্ণ। প্রাণ প্রতিষ্ঠার মন্ত্রেও তাঁদের উল্লেখ মেলে। দুর্গাপুজো ছাড়াও অন্নপূর্ণা ও জগদ্ধাত্রী পুজোয় তাঁদের আরাধনা হয়।

গবেষক তমোঘ্ন নস্কর জানান, বারোয়ারি পুজোয় বাঙালি দেবীকে ভরা সংসার নিয়ে দেখতে ভালোবাসেন বলে বিগ্রহে জয়া-বিজয়া অনুপস্থিত থাকলেও, চালচিত্রে বা পুজোর মন্ত্রে তাঁরা থাকেন। তন্ত্রমতে, দশমহাবিদ্যার ছিন্নমস্তা দেবীর দুই সখী ডাকিনী ও বর্ণিনী আসলে জয়া ও বিজয়া, যা সত্ত্ব, রজঃ ও তমঃ গুণের প্রতীক। এই দুই সখী দেবীর শক্তি বিগ্রহের অবিচ্ছেদ্য অংশ।