চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধায় পুরুলিয়ায় রাবণ দহন, অশুভ শক্তি বিনাশের বার্তা

চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের শ্রদ্ধায় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে রাবণ দহন। অশুভ শক্তির বিনাশ ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা। বিস্তারিত জানুন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২১ অক্টোবর ২০২৬: কলকাতার চোরবাগান কাণ্ডে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং সমাজে অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা দিতে পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে এক বিশেষ রাবণ দহন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল।

বিজয়া দশমীর পুণ্য সন্ধ্যায় প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার রাবণের কুশপুতুল দাহ করে এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক অশুভ ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই প্রার্থনাও জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ আট বছর পর পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলে আবার দুর্গাপূজা আয়োজিত হওয়ায় ক্যাডেট ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে আনন্দ ছিল তুঙ্গে। তবে প্রথম সপ্তমীতে চোরবাগানের ভয়াবহ ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর সেই আনন্দের রেশ কিছুটা হলেও ম্লান হয়। এই প্রেক্ষাপটেই সৈনিক স্কুলের ক্যাডেটরা অশুভ শক্তির বিনাশের এই বিশেষ বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিষ্ঠানের নারী শক্তির উদ্যোগে আট বছর পর এখানে মা দুর্গা ফিরেছিলেন। সেই নারী শক্তির আয়োজনেই এই রাবণ দহনের মাধ্যমে সমাজের সকল অশুভ শক্তিকে বিনাশ করার সংকল্প গ্রহণ করা হয়।

পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন রজনীশ কুমারের তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর স্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতায় এই সম্পূর্ণ আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। ক্যাডেটরা এই রাবণ দহনের মাধ্যমে শোকাহত পরিবারের প্রতি তাঁদের গভীর সংবেদনা প্রকাশ করেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে অশুভের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।

এই উদ্যোগ কেবল একটি প্রাচীন প্রথা পালন নয়, বরং এটি এক শক্তিশালী সামাজিক বার্তা, যা শান্তি, ন্যায় ও শুভর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিবেদিত। এই ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই সচেতনতা বৃদ্ধিতেও এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।