চ্যাটজিপিটি–জেমিনির টক্কর দিতে তৈরি বাংলাদেশ! নিজস্ব বাংলা এআই আনতে চার বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো উন্নত এআই মডেল তৈরিতে বাংলাদেশ বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে। শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থার সাথে চলছে আলোচনা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দুনিয়ায় এবার নিজেদের জায়গা তৈরি করতে উদ্যোগী বাংলাদেশ। চ্যাটজিপিটি কিংবা গুগলের জেমিনির মতো উন্নত এআই মডেল তৈরির পরিকল্পনা করছে ঢাকা। বিশেষ লক্ষ্য বাংলা ভাষাভিত্তিক নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করা, যাতে দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়।

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই বিশ্বের চারটি শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের কাছ থেকে। এই উদ্যোগে শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক এবং দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও অংশ নিতে পারবে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজিপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত জাতীয় ডেটা সেন্টারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে এই এআই পরিকাঠামো। প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদেশি প্রযুক্তি সংস্থার মডেলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর উপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বাংলা ভাষায় উন্নত এআই পরিষেবা তৈরি হলে শিক্ষা, গবেষণা, প্রশাসন এবং ব্যবসার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে পরিকল্পনা ঘিরে সংশয়ও রয়েছে। অতীতে ফেসবুক, জুম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প দেশীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে বিপুল বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা থাকা এই এআই প্রকল্প বাস্তবে কতটা সফল হবে, এখন সেটাই দেখার।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জাতীয় এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে সার্বভৌম এআই পরিকাঠামো চালুর লক্ষ্য রয়েছে, যা বেসরকারি সংস্থা, স্টার্টআপ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।