ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: মা কালীর এক অতি রহস্যময় ও উগ্র রূপ হল গুহ্যকালী, তন্ত্র সাধনার এক দুর্লভ আরাধ্যা দেবী। গাঢ় মেঘের মতো গাত্রবর্ণ, নরমুণ্ডের মালা এবং হাতে খড়গ ও নাগপাশ – দেবীর এই রূপ সাধারণত গৃহস্থের অলিন্দে প্রবেশ করে না। মহাশ্মশানই তাঁর চিরকালীন আশ্রয়।
তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে দেবীর নয়টি রূপের মধ্যে গুহ্যকালী অন্যতম। যদিও দক্ষিণা, ভদ্রকালী বা শ্মশান কালীর নাম অনেকেই শুনেছেন, গুহ্যকালীর মাহাত্ম্য কেবল তান্ত্রিক সাধকদের কাছেই বিশেষ।
দেবী ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী, শতাক্ষী দেবীর শরীর থেকেই তাঁর উৎপত্তি। সাধক মহলে তিনি ‘আকালী’ নামেও পরিচিত। সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই দেবীর আরাধনা নিষিদ্ধ হলেও, তান্ত্রিক সাধকদের কাছে গুহ্যকালীর গুরুত্ব অপরিসীম।
এই দেবীর সাধনা অত্যন্ত কঠিন এবং এর জন্য বিশেষ জ্ঞান ও নিষ্ঠা প্রয়োজন। মহাশ্মশানের নিস্তব্ধতা এবং গভীর ধ্যানের মাধ্যমেই এই দেবীর কৃপা লাভ করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। বাংলার বহু সাধক একসময় মায়ের এই গুহ্য রূপের সাধনায় মগ্ন থাকতেন।
কালীপুজোর আগে এই দেবীর রহস্যময়তা ও উগ্র রূপ নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। দেবীর এই বিশেষ রূপের আরাধনা কেবল বিশেষ তিথি ও বিশেষ স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা তাঁর মহিমাকে আরও বেশি রহস্যময় করে তুলেছে।








