ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: শান্তিপুরের বামা কালীর বিসর্জন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। এই দৃশ্য চাক্ষুষ করতে বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন শান্তিপুরে।
তবে এখানে দেবীর মূর্তির বিশেষ শাস্ত্রীয় মাহাত্ম্য রয়েছে, যা সাধারণ কালিকা মূর্তির থেকে ভিন্ন। বেশিরভাগ কালিকা মূর্তিতে যেখানে মহাদেবের বক্ষে দেবীর দক্ষিণ পদ থাকে, সেখানে শান্তিপুরের বামা কালীর বিগ্রহে দেবীর বাম চরণ স্থাপিত। এই বিশেষ মহাতান্ত্রিক ও শাস্ত্রীয় কারণেই দেবীর নাম ‘বামা কালী’।
শক্তি উপাসনার এই ব্যতিক্রমী রূপ দেখতে প্রতি বছর বহু ভক্তের সমাগম হয়। বিসর্জনের সময় শান্তিপুরের রাস্তায় এক অন্যরকম ছবি দেখা যায়। সুবিশাল দেবীর প্রতিমা বিশেষ কৌশলে বাঁশের মাচায় স্থাপন করা হয়। এরপর বলিষ্ঠ ভক্তরা পরম ভক্তি সহকারে সেই কাঠামো নিজেদের কাঁধে তুলে নেন। তারপরই শুরু হয় এক রোমাঞ্চকর যাত্রা, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন।
শোভাযাত্রা চলাকালীন ভক্তরা প্রতিমা কাঁধে নিয়েই উল্লাসে লাফাতে থাকেন। তাঁদের তালে তালে দেবীর বিশাল প্রতিমাও দুলতে থাকে। এই স্পন্দনের ফলে দেখে মনে হয় যেন স্বয়ং দেবীও উন্মত্ত নৃত্যে মেতে উঠেছেন। এই ঐতিহ্যবাহী নাচ ও বিসর্জন দেখতে প্রতি বছর বহু মানুষের সমাগম হয়, যা শান্তিপুরের অন্যতম আকর্ষণ। এই দৃশ্য কেবল ভক্তদের মনেই নয়, পর্যটকদের মনেও গভীর ছাপ ফেলে যায়।








