ট্রাম্পের হারে কি ধসে যাবে মাস্ক-এর সাম্রাজ্য!

আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ইলন মাস্কের সাম্রাজ্যে কি এবার তদন্তের খাঁড়া? ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও ডেমোক্র্যাটদের জয়যাত্রা অব্যাহত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান শিবিরের ভরাডুবি। আর সেই ধাক্কায় এবার বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পপতি ইলন মাস্ক! রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেও শেষরক্ষা হল না তাঁর। বরং নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসতেই মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সমর্থনে প্রায় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছিলেন মাস্ক। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা। বিশেষ করে টেক্সাসে রিপাবলিকানদের জেতাতে বিপুল অর্থ ঢেলেছিলেন তিনি। কারণ টেসলা ও স্পেসএক্সের মতো তাঁর একাধিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এই রাজ্যেই।

কিন্তু ফল হল উল্টো। টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসা। পাশাপাশি কংগ্রেসের দুই কক্ষেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে মাস্কের রাজনৈতিক প্রভাব এবং বিপুল অর্থব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

নির্বাচনের পর মাস্কের সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। সরকারি চাকরি ছাঁটাই, সরকারি চুক্তি ও অনুদান, ইউক্রেনে স্যাটেলাইট পরিষেবা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখতে পারেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। হাউস ওভারসাইট কমিটির আসন্ন চেয়ারম্যান রবার্ট গার্সিয়াও ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনি প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের পর প্রাক্‌-বাজার লেনদেনে স্পেসএক্সের শেয়ার ৩.৮ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ার ৩.৬ শতাংশ কমেছে বলে খবর। তবে তদন্তের সম্ভাবনা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। এখন দেখার, রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে মাস্কের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে সত্যিই কতটা প্রভাব পড়ে।