রাবনের জয়কার! বহুল প্রশংসিত রাবনরুপি যশ, ছাপালো রণবীর কাপুরের রামকেও

যশ অভিনীত নীতেশ তিওয়ারির 'রামায়ণ' ছবিতে রাবণের চরিত্র নতুন আঙ্গিকে। তবে, ছবিটি কি কেবলই এক নিরাপদ নির্মাণ?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: রামায়ণের গল্পে রামই নায়ক, আর রাবণ চিরকাল পরিচিত খলনায়ক হিসেবে। কিন্তু এবার সেই পরিচিত ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করল নীতেশ তিওয়ারির পরিচালিত ছবি ‘রামায়ণ’। ছবিতে রাবণের চরিত্রে যশের অভিনয় শুধু দর্শকদেরই নয়, চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ভারতীয় মহাকাব্যের এই পরিচিত চরিত্রকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার চেষ্টা ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত অনাস আরিফের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ছবিটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল রাবণের চরিত্র নির্মাণ। সাধারণত রাবণের অহংকার, ক্ষমতা ও অশুভ কর্মকাণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এই ছবিতে তাঁর অতীত, ব্যক্তিত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং মানসিক দ্বন্দ্বের দিকগুলিও তুলে ধরা হয়েছে।

ছবির প্রথম প্রায় ৫০ মিনিট জুড়ে দর্শককে দেখানো হয়েছে রাবণের শৈশব, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতায় উত্থানের কাহিনি। সংগীতের প্রতি আকর্ষণ, মায়ের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই—সব মিলিয়ে রাবণের চরিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে চিত্রনাট্য।

যশের অভিনয়ে একদিকে যেমন রয়েছে ক্ষমতার দম্ভ, ঔদ্ধত্য ও ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে ফুটে উঠেছে দুর্বলতা এবং আত্মদ্বন্দ্ব। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাবণের দশটি মাথাকে তাঁর মনের বিভিন্ন চিন্তা ও পরস্পরবিরোধী আবেগের প্রতীক হিসেবে দেখানোর প্রয়াস।

তবে ছবিটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যাখ্যার পথে হাঁটেনি। বরং পরিচিত কাহিনিকে নিরাপদ ও প্রচলিত কাঠামোর মধ্যেই রেখেছে। রামায়ণের অন্যান্য চরিত্রের তুলনায় রাবণকে বেশি গভীরভাবে তুলে ধরাই এই ছবির অন্যতম সাফল্য।

সব মিলিয়ে, এই ছবিতে রাবণ শুধু এক অশুভ শক্তির প্রতীক নন, বরং তাঁর চরিত্রের পিছনে থাকা মানুষটিকেও বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর সেখানেই যশের রাবণ নতুন করে আলোচনায়।