ব্যুরো নিউজ, ২৬ মে ২০২৬ঃ “টলিউড আমার অগ্রাধিকার নয়, শ্যামপুরের মানুষই আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কে টলিউডে ব্যানড হলেন, সেটা আমার কাছে মুখ্য নয়।”— বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিনেতা-বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী সুবিন্দু অধিকারী টলিউডের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে যে চার তারকা বিধায়ককে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হিরণ। তবে রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় যখন টলিপাড়ার অন্দরের ক্ষোভ, কাজ হারানোর অভিযোগ এবং শিল্পী-কলাকুশলীদের অনিশ্চয়তা নিয়ে সরব, তখন হিরণকে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভূমিকায়।
দীর্ঘদিন ধরেই টলিউডের অন্দরে কাজের পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষ জমছিল। অভিযোগ ছিল, ইন্ডাস্ট্রির এক প্রভাবশালী গোষ্ঠী স্টুডিও পাড়ায় নিয়ন্ত্রণ কায়েম রেখেছিল, যার ফলে বহু শিল্পী ও কলাকুশলী কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতি বদলাতেই মুখ্যমন্ত্রী “ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করুন” বার্তা দিয়ে চার বিধায়কের কাঁধে এই গুরুদায়িত্ব তুলে দেন। রুদ্রনীল ও পাপিয়া একাধিকবার আলোচনায় বসেছেন, অভিযোগ শুনেছেন এবং ‘ব্যানড’ শিল্পীদের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলেছেন। তবে হিরণ চট্টোপাধ্যায় এই মুহূর্তে তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র শ্যামপুরের উন্নয়ন নিয়েই ব্যস্ত।
তিনি জানান, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বিষয়ে সব কিছু যেন তাঁকেই জানানো হয়। আমিও নিয়মিত সেটাই করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ শুধু টলিউড বা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে নয়। এটা অনেক বড় এবং বিস্তৃত ক্ষেত্র।” নিজের আত্মসম্মানের কথা উল্লেখ করে হিরণ বলেন, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যদি আমাকে কাজ না-ও দেয়, তাতে আমার জীবন থেমে যাবে না। আমি অন্য ক্ষেত্রেও সক্ষম।” তাঁর এই মন্তব্য টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর কাজের পদ্ধতিগত পার্থক্যও স্পষ্ট করে তুলেছে।







