মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের তোড়জোড়, অক্টোবরেই বিশেষ সংসদ অধিবেশন!

মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশের লক্ষ্যে অক্টোবরেই বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকতে চলেছে কেন্দ্র। গতবার ব্যর্থ হলেও এবার আত্মবিশ্বাসী সরকার।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ অক্টোবর ২০২৬: বিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ এবং নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল পাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র।

সূত্রের খবর, চলতি মাসেই বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকতে পারে মোদি সরকার। ২৬-২৭শে অক্টোবর সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ ব্রিকস পার্লামেন্টারি ফোরামের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এই বিশেষ অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হবে।

গত ১৭ই এপ্রিল বাজেট অধিবেশনে এই সংবিধান সংশোধনী বিলগুলি প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় পাশ করাতে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছিল সরকার। তবে এবার প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কেন্দ্র, এমনটাই জানা গিয়েছে।

বর্তমানে এসআইআর নিয়ে আপত্তি এবং মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লি উত্তাল। কংগ্রেস সহ বিরোধী দলগুলি যখন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি পাশের তোড়জোড় শুরু হল।

কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষপট বদলে যাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে কারণ তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিএমকের সাথে দূরত্ব বেড়েছে কংগ্রেসের। এই অবস্থায় ডিএমকের ২২ জন সাংসদের সমর্থন মিলবে বলেই আশা করছে শাসক দল। যদিও অতীতে আসন পুনর্বিন্যাস বিলের কঠোর বিরোধিতা করেছিল ডিএমকে। কিন্তু পরে ইন্ডি জোট থেকে বেরিয়ে যায় তারা। ডিএমকে ছাড়াও আর বেশ কয়েকটি ছোট দলের মৌখিক সমর্থনও আদায় করেছে বিজেপি বলে খবর। এই পদক্ষেপকে সরকারের একটি কৌশলগত চাল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর হলে ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আসন পুনর্বিন্যাস বিল দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আনবে।

সরকারের এই উদ্যোগ আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।