ব্যুরো নিউজ, ৫ নভেম্বর ২০২৬: দীপাবলির আলোর উৎসবের সাথে জড়িয়ে আছে সুস্থ জীবনের প্রার্থনা। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশী। এই তিথিতে কেবল ধনসম্পদের দেবীর আরাধনাই নয়, বরং স্বাস্থ্য ও আয়ুর দেব, অর্থাৎ দেববৈদ্য ধন্বন্তরিরও পুজো করা হয়।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে ধন্বন্তরি আবির্ভূত হয়েছিলেন। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় এই তিথিতেই অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান ধন্বন্তরি। তাঁর এক হাতে থাকত অমৃতের কলস এবং অন্য হাতে শঙ্খ, চক্র ও ঔষধি। জল থেকে তাঁর জন্ম হওয়ায় মহাবিষ্ণু তাঁকে ‘অব্জ’ নামেও সম্বোধন করেন।
ধন্বন্তরিকে আয়ুর্বেদের জনক হিসেবেও গণ্য করা হয়। দ্বাপর যুগে কাশীরাজ দীর্ঘতপার আরাধনায় তিনি মর্ত্যে পুনরায় অবতীর্ণ হন এবং কাশীরাজের পুত্ররূপে জন্ম নিয়ে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেন। ঋষি ভরদ্বাজ তাঁকে ঔষধিবিদ্যার জ্ঞান দান করেন।
তাই ধনতেরাসের দিনে ধন্বন্তরির পুজো করলে জরা, ব্যাধি ও অকালমৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এই পুজোয় স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু লাভ হয়। এই তিথিতে সোনা, রুপো বা বাসনপত্র কেনা শুভ বলে মনে করা হয়। তবে ধন্বন্তরির আরাধনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে তাঁর পুজো করলে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।
তাই ধনতেরাস কেবল ধনপ্রাপ্তির উৎসব নয়, বরং সুস্বাস্থ্য কামনারও একটি বিশেষ দিন।








